খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

গাজার ৭০ শতাংশ দখলের নির্দেশ নেতানিয়াহুর, চুক্তি লঙ্ঘন ও মানবিক সংকটের উদ্বেগ

Md Abu Sayed
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজার ৭০ শতাংশ দখলের নির্দেশ নেতানিয়াহুর, চুক্তি লঙ্ঘন ও মানবিক সংকটের উদ্বেগ

ইসরায়েলের উগ্রপন্থী ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির সামরিক বাহিনীকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন।

নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েল হামাসের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে। তিনি বলেন, “গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা এখন আমাদের হাতে। আগে আমরা ৫০ শতাংশ এলাকায় ছিলাম, সেখান থেকে আমরা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছি।” কট্টরপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমার নির্দেশ হলো ধাপে ধাপে এগোনো। প্রথমেই ৭০ শতাংশে যেতে হবে। আপাতত এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা শুরু করি।” এ সময় উপস্থিত উগ্রপন্থী ইহুদি দর্শকরা পুরো গাজা দখলের দাবি জানান।

গত এপ্রিলের শেষের দিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে কিছু মানচিত্র সরবরাহ করে, যেখানে দেখা যায় গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা আগেই ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গাজার আরও এলাকা ইসরায়েলের দখলে গেলে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি চরম বিপাকে পড়বেন, যারা বর্তমানে উপকূলীয় উপত্যকার সামান্য ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েলি সেনারা ‘ইয়োলো লাইন’ (হলুদ রেখা) নামক একটি সীমানায় পিছিয়ে গিয়েছিল। এর ফলে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। গত মঙ্গলবার হামাস ইসরায়েলকে এই সীমানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে বলেছে যে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল প্রকাশ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং জোরপূর্বক নতুন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। হামাসের মতে, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো গাজার ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করা, যা ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও সংঘাত কমানোর যেকোনো চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গত অক্টোবরে কার্যকর হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে হওয়া এই চুক্তির শর্ত মেনে চলার কথা ছিল ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষেরই। তবে বর্তমানে এর বাস্তবায়ন থমকে আছে, যা গাজা ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ চলতি মাসের শুরুতে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হলে এই ‘ইয়োলো লাইন’ একসময় সীমানাপ্রাচীর বা দেয়ালে পরিণত হতে পারে, যার ফলে গাজা স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে। ম্লাদেনভ গাজার বর্তমান বাস্তবতার কথাও স্বীকার করে বলেন, সেখানে “এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন” এবং “ইসরায়েলি বিমান হামলার ভয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো”।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে। তারা অভিযোগ করে যে, হামাস নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং নিজেদের বাহিনীকে আবার সংগঠিত করছে, এর মধ্য দিয়ে হামাসই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ফিলিস্তিনের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলের এসব হামলায় গাজায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েল হামাসের সামরিক শাখার নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে। এর ১১ দিন পর আরেক হামলায় তাঁর উত্তরসূরিকেও হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে বলেন, “৭ অক্টোবরের হামলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে হত্যার শপথ নিয়েছিলাম আমরা। আর আমরা সেটাই করব। তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁদের মৃত্যুদণ্ড অবধারিত।”

ম্লাদেনভ আরও বলেন, হামাসও তাদের অস্ত্র সমর্পণ বা ধ্বংস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, অথচ গাজার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার এই প্রধান শর্তটির ওপর। শর্ত অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজার বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, এরপর ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দখল করা এলাকা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাবে। বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাতে চেয়েছে, তবে ঠিক কবে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় এই সুযোগে গাজার আরও বেশি এলাকা ক্রমশ দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত এই ভূখণ্ডে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করছে।

advertisement
advertisement

বিরোধীদের ক্ষোভ ও পদত্যাগের দাবির মুখে ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের জনসংযোগ অনুষ্ঠান স্থগিত

Md Abu Sayed
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিরোধীদের ক্ষোভ ও পদত্যাগের দাবির মুখে ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের জনসংযোগ অনুষ্ঠান স্থগিত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও পদত্যাগের জোরালো দাবির প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের দুটি জনসংযোগ কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অনুষ্ঠানটি গত বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের মিরাটে এবং দ্বিতীয়টি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় আসন বারানসিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে গণমাধ্যমে এই স্থগিতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের সূত্রের মতে, অতীতে প্রতিকূল আবহাওয়া বা শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতিতে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ কিংবা লাদাখেও এমন কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল হয়েছিল। তবে মিরাট ও বারানসির অনুষ্ঠান দুটি কেন স্থগিত করা হলো, সে ব্যাপারে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের সার্বিক পরিচালনা ও সিইসির ভূমিকা নিয়ে কমিশনের বাকি দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলার পরই পুরো ভারতে বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিবাদে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে একযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে সিইসিকে পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে সতর্ক করে বলেছেন, পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং দ্বিতীয় ‘যন্তর মন্তর’ সৃষ্টি করা হবে। ঠিক এমন এক রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই সিইসির সফর স্থগিতের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

দেশের তরুণ সমাজকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে কমিশনের একটি নিয়মিত উদ্যোগ হলো ‘ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাব’ (ইএলসি)। তরুণদের মাঝে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলাসহ ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করাই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ইসি মূলত ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্কুলশিক্ষার্থী অর্থাৎ ‘জেন আলফা’ এবং ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ‘জেন-জি’ তরুণদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যদল হিসেবে নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সচেতনতায় পরিচালিত হয় ‘ভোট পাঠশালা’। উত্তর প্রদেশের মিরাট ও বারানসিতে এমনই দুটি আয়োজনে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। উল্লেখ্য, ইএলসি ও ইসিনেটের সর্বশেষ অনুষ্ঠানটি গত ১১ সেপ্টেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে আয়োজিত হয়েছিল।

মুদিদোকানের একটি ফোনেই বদলেছিল ভাগ্য, ক্যানসারের সাথে লড়াই শেষে চলে গেলেন অভিনেতা মুস্তাক খান

Md Abu Sayed
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মুদিদোকানের একটি ফোনেই বদলেছিল ভাগ্য, ক্যানসারের সাথে লড়াই শেষে চলে গেলেন অভিনেতা মুস্তাক খান

মুস্তাক খান। কোলাজ

দীর্ঘদিন দূরারোগ্য ক্যানসারের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন বলিউডের সুপরিচিত পার্শ্বচরিত্রাভিনেতা মুস্তাক খান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫৬ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে কোনোদিন নায়ক না হলেও রূপালি পর্দায় নিজের অসামান্য কমিক টাইমিং ও সাবলীল উপস্থিতিতে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরলেও সম্প্রতি তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছিল বলে নিশ্চিত করে ভারতীয় চলচ্চিত্রকর্মীদের সংগঠন।

মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার বাইহার শহর থেকে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পা রেখেছিলেন মুস্তাক। সে যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মুঠোফোন বা ই-মেইল না থাকায় প্রতিষ্ঠিত পরিচালকদের কাছে পৌঁছানো ছিল প্রায় অসম্ভব এক লড়াই। নিজ বাসস্থানে টেলিফোন না থাকায় যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল পাশের একটি মুদিদোকান। কোনো পরিচালক ফোন করলে সেই খবর পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে দোকানদারকে প্রতিবার এক টাকা করে দিতেন তিনি। এভাবেই মহেশ ভাটের সঙ্গে দেখা করার আশায় প্রায় ১৫ দিন অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ফোনটি আসে। চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের সুপারিশে ভাটের সঙ্গে মুস্তাকের পরিচয় ঘটেছিল। প্রথম দেখায় সুযোগ না মিললেও তিনি মুস্তাককে ভাই মুকেশ ভাট ও চিত্রনাট্যকার রবিন ভাটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন। পরবর্তী সময়ে সেই মুদিদোকানের ফোনকলটিই তাঁর ভাগ্য চিরতরে বদলে দেয়।

১৯৮৮ সালে মহেশ ভাটের অ্যাকশনধর্মী ছবি ‘কবজা’-য় ‘তিওয়ারি’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। সঞ্জয় দত্ত, রাজ বব্বর, ডিম্পল কাপাডিয়া ও অমৃতা সিং অভিনীত ছবিটিতে মুস্তাকের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি পরিচালক ভাটের নজর কাড়ে। এর প্রেক্ষিতে তিনি ওয়াহিদা রহমান ও আকর্ষ খুরানা অভিনীত ‘স্বয়ম’ নামের একটি টেলিফিল্মে তাঁকে তুলনামূলক বড় চরিত্রে সুযোগ দেন। এরপর তিনি মহেশ ভাটের নির্ভরযোগ্য অভিনেতায় পরিণত হন এবং ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘সড়ক’, ‘সাথি’, ‘জুনুন’, ‘গুনাহ’, ‘সির’, ‘গুমরাহ’, ‘নারাজ’ ও ‘চাহত’-এর মতো বহু ছবিতে অভিনয় করেন। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’ সিনেমায় ‘ভগবতী প্রসাদ মিশ্র’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক মহলে দারুণ সাড়া ফেলে।

মুস্তাকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অন্যতম দুটি উজ্জ্বল অধ্যায় হলো ‘গদার’ ও ‘ওয়েলকাম’। ২০০১ সালে সানি দেওল অভিনীত ‘গদার: এক প্রেম কথা’ এবং দুই দশক পর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গদার ২’ ছবিতে ‘গুল খান’ বা ‘গুল্লু’ চরিত্রে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’-এ অক্ষয় কুমার, নানা পাটেকর, অনিল কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ ও পরেশ রাওয়ালের মতো শীর্ষ তারকাদের পাশাপাশি সাবেক প্রতিবন্ধী হকি খেলোয়াড় ‘বাল্লু’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও স্মরণীয়। পরে জানা যায়, অতিরিক্ত শুটিং করা সত্ত্বেও অত্যন্ত জনপ্রিয় এই চরিত্রের জন্য তিনি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ১ লাখ রুপি, যা মূল তারকা অক্ষয় কুমারের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের কারও কারও আয়ের চেয়েও কম ছিল। কমেডির পাশাপাশি তিনি পুলিশ, কেরানি, আত্মীয়স্বজনসহ নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে ‘হেরা ফেরি’, ‘জোড়ি নম্বর ওয়ান’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘বালা’, ‘বধাই দো’ এবং ‘স্ত্রী ২’-এর মতো সাম্প্রতিক সফল ছবিতেও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ছোটপর্দায় ‘কুছ রং পেয়ার কে অ্যায়সে ভি’ ধারাবাহিকেও কাজ করেছেন তিনি।

মৃত্যুর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক চরম দুর্বিষহ ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন মুস্তাক খান। একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে উত্তর প্রদেশে গিয়ে তিনি অপহরণের শিকার হন। ২০ নভেম্বর তাঁকে দিল্লি থেকে বিজনোরের একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ২ লাখ ২০ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন সকালে অপহরণকারীরা ঘুমিয়ে পড়ার পর আজানের ধ্বনি শুনে পালিয়ে গিয়ে কাছের একটি মসজিদে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, একই অপরাধী চক্র অভিনেতা শক্তি কাপুরকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলার চক্রান্ত করেছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী সালমা খান, শিক্ষক পুত্রবধূ সাবা খান ও দুই ছেলে—মোহাম্মদ আরশাদ খান ও সাবেক মডেল মোহসিন খানকে রেখে গেছেন বলে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ও ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আমির খান আবার বিয়ে করছেন, পাত্রী কে

Md Abu Sayed
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আমির খান আবার বিয়ে করছেন, পাত্রী কে

আমির খান আবার বিয়ে করছেন, পাত্রী কে

নিজেকে ভাঙাগড়ার খেলায় মেতেছেন শাকিব খান। প্রতি ঈদে তিনি যেমন নতুন পরিচালকদের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তেমনি নিজেকে নিয়েও করছেন দেদার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শাকিব খান নিজেকে ভাঙছেন ঠিকই, কিন্তু পরিচালকেরা কি তাঁকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারছেন? কথা হচ্ছিল ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে। টিজার, পোস্টার আর গান দিয়ে মুক্তির আগে যেভাবে সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ জাগিয়েছিলেন নতুন পরিচালক, সিনেমা হলে গিয়ে সেসবের প্রতিফলন কতটা দেখতে পেলেন দর্শক?


শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, ‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, 

‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।শাকিব খানকে নতুনরূপে দেখে অনেক দর্শক আনন্দ পেয়েছেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। আগের সিনেমাগুলোতে (‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’, ‘প্রিন্স’) শাকিব খানকে দেখা গিয়েছিল অ্যাকশনের মেজাজে। প্রায় সব ছবিতে ছিলেন মেশিনগান হাতে। তবে ‘রকস্টার’ সিনেমায় তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন গিটার আর মাইক। সিনেমার একপর্যায়ে আগুন (শাকিব খান) বলেন, ‘এবার আমি মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে নিলাম।’ এটা যেন নিজেকে নিয়ে নিজেরই করা দারুণ এক মজা, যেমনটা ‘উৎসব’-এ করেছিলেন জয়া আহসান।